• tanchoi 23w

    পরিনতি (পার্ট ৪)

    পরদিন মেডিকাল টেস্ট এর রেজাল্ট নিতে যায় ও। রেজাল্টটা পেয়ে সুমিতের মুখটা মনে করে ও, ভাবে একবারের জন্য যদি সব কিছু মিথ্যে হয়ে যায়, যদি সুমিতের মেডিকেল রিপোর্ট টা ভুল হয়, যদি ও সন্তানসম্ভবা না হয়। খুলে দেখে প্রেগ্নেন্সি টেস্ট ও পজিটিভ আর এইচ আই ভি টেস্ট ও পজিটিভ। নীচে লেখা 'কন্সাল্ট ড: অনিমেষ সেনগুপ্ত'। কাগজদুটোই ছিঁড়ে ফেলে দেয়ে রিচা। বাড়ি ফিরে আসে ও। ছায়া দি বলে," আজ তোমার ফেভারিট চকলেট কাস্টারড বানিয়েছি, ড্রেসটা বদলে আস তো দেখি দিদামণি।" রিচা অনেক সময়ে পরে ও খেতে না এলে, ছায়া দি ঘরে দেখতে গেলে দেখে রিচা বিছানায় শুয়ে। দিদিমণিকে অনেকবার ডাকাডাকি করলেও ওঠে না। নিশ্বাস পড়ছে না। দেখে রিচার হাত থেকে রক্ত বয়ে যাচ্ছে। রক্তমাখা ব্লেডটা পাশেই পড়ে। অন্য হাতে একটুকরো কাগজ, চোখের জলে আর রক্তে আরধেকটা ধুয়ে মুছে গেছে। অনেক কষ্ট করে পড়ল ছায়া দি। --" না, তোমার শাস্তি আমি চাই না, তোমাকে অনেকটা ভালবেসেছিলাম কিনা, তাই তোমার কোন ক্ষতি হলে আমারই কষ্ট হবে, তুমি হঠাৎ করে কোথায় হারিয়ে গেলে, আমাকে এইভাবেই বা ঠকালে কেন, আমার ভালবাসা, বিশ্বাস বা ভরসায় তো কোন খাদ ছিল না, তবে কেন? আমাকে যে রোগটা তুমি দিয়েছ তাতে তো আমি এমনিও একদিন চলেই যেতাম, কিন্তু আমি যে একদিনও তোমাকে অবিশ্বাস করে বেচে থাকতে পারব না, আর মা কেই বা কি জবাব দেব। আজ মা'র কথা খুব মনে পড়ছে, কি জানি কখন ফিরবে বাড়ি, আর ফিরেই বা আমাকে দেখে কি করবে, কোনদিনও তো আমাকে জড়িয়ে ধরে নি, আজও কি ধরবে না? মা আজ কি একবার ও চোখের জল ফেলবে না? আর বাবা, বাবা কি আসবে একবারের জন্য বিদেশ থেকে, না আসলে তো কখনই তার মেয়েকে আর দেখতে পাবে না। ছায়া দি কাঁদছ বুঝি, নো কান্নাকাটি, জানি তুমি ই প্রথম পড়বে চিঠিটা, আজ বুঝলাম তুমি ছাড়া কেউ আমাকে কখন ও ভালবাসে নি। ভেবে নিও রিচা আছে বিদেশে, ভাল আছে, হয়তো কোন ভালবাসার পাত্রের অপেক্ষায়। ভাল থেক সবাই। আর পাড়লে ক্ষমা কর। ইতি রিচা।"
    ©tanchoi